যুবলীগকে চাঁদা না দেওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাদের হাতুড়ি পেটা

প্রকাশিত: ৮:২৭ অপরাহ্ণ, মে ৬, ২০২০

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর যুবলীগের নামধারী কয়েকজন সন্ত্রাসীকে চাঁদা না দেওয়ায় আওয়ামী লীগের দুই প্রবীণ নেতাকে হাতুড়ি পেটা করে গুরুতর আহত করার ঘটনা ঘটেছে। আহতরা হলেন ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের ৭নং ওয়ার্ড সভাপতি আবুল কাশেম গোলবার (৫৫) ও সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব (৬০)। তারা পৌর সুপার মার্কেটের দৈনিক সবজি বাজারের ইজারদার।

আজ বুধবার সকালে পৌর সুপার মার্কেটের মারপিটের এই ঘটনা ঘটে।

আহত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য মতে, ঘটনার সময় শহরের আমবাগান এলাকার আলমগীর হোসেন ও শফিকুল ইসলাম সঙ্গীয় কিছু সহযোগীদের নিয়ে যুবলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে সবজি বাজারের ইজারাদার আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম গোলবার ও হাবিবের নিকট চাঁদা দাবি করে। তারা চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে যুবলীগের নেতাকর্মী পরিচয় দেওয়া যুবকরা হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতারীভাবে পিটিয়ে ওই দুইজনকে গুরুতর আহত করে। পরে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

আহত গোলবার হোসেনের ছেলে সনি জানান, পৌর মার্কেটের সামনে দৈনিক সবজির বাজারের ইজারাদার ও বাজার সংশ্লিষ্টদের নিকট থেকে বেশ কিছুদিন ধরেই শহরের আমবাগান এলাকার যুবলীগ নামধারী সন্ত্রাসী আলমগীর হোসেন ও শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে চাঁদা দাবি করে আসছিল। ঘটনার দিন সকালে চাঁদা না দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা শত শত মানুষের উপস্থিতিতে হামলা হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাথারী পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও দাবি করেন সনি।

আওয়ামী লীগের দলীয় একাধিক সুত্র মতে, ঈশ্বরদীতে দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুর সদ্য প্রয়াত সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ ডিলু এমপি ও মেয়ে জামাই পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর মধ্যে তীব্র গ্রুপিং দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। মেয়র মিন্টু (পাবনা-৪) ঈশ্বরদী-আটঘড়িয়া আসনে সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম লিটনের নেতৃত্বে ঈশ্বরদীতে গ্রুপিং রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। মেয়রের সঙ্গে ঈশ্বরদী উপজেলা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসাহক আলী মালিথাসহ তার বংশের ও অনুসারে লোকজনও ছিলেন।

সম্প্রতি ডিলু এমপি মারা যাওয়ায় ইসাহক আলী মালিথা তার লোকজন নিয়ে মিন্টু গ্রুপ থেকে বের হয়ে প্রয়াত ডিলু এমপির পরিবারের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। ফলে ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়। ঈশ্বরদীতে নেতাকর্মীহীন হয়ে পড়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী লিটন এবং মেয়র মিন্টু। এই কারণে মেয়র মিন্টু গ্রুপের সঙ্গে প্রয়াত ডিলু এমপি পরিবারের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র রেশারেশি চলছে। এই কারণে মিন্টু গ্রুপের যুবলীগ নেতা নামধারী আলমগীর ও শফিকুলের নেতৃত্বে দৈনিক সবজি বাজারের ইজারাদার আওয়ামী লীগ গোলবার ও হাবিবকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনা ঘটেছে বলে সূত্রগুলো দাবি করেন।

ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন বিপ্লব ওরফে ভিপি বিপ্লব জানান, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের এভাবে মারধরের ঘটনা অত্যন্ত লজ্জা ও নিন্দনীয়।  আলমগীর ও শফিকুলসহ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তারা কেউ পৌর যুবলীগের কোনো কমিটিতে নেই। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরীফ তমাল জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা উপজেলা যুবলীগের কেউ নয়। যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে যারা এসব অকর্ম করছে তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।

ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথা জানান, আবুল কাশেম গোলবার ও হাবিব আওয়ামী লীগের দক্ষ ও প্রবীণ নেতা। দীর্ঘদিন ধরে তারা সুনামের সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছেন। বাজারের চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ে একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে নামধারী কিছু যুবলীগের কর্মী মারধর করবে এটি মেনে নেওয়া যায় না। এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক শৃংঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগেও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

ঈশ্বরদী থানার ওসি বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, আওয়ামী লীগের দুই নেতার উপর হামলার ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ করা হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনার পর শহরে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হয়েছে।