মুসলিম যখন আল্লাহর ঘর হতে বিতাড়িত-মুফতী আব্দুল্লাহ মাহবুব কাসেমী

প্রকাশিত: ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ, মে ২, ২০২০

আল্লাহ তায়ালার জমীনে পূর্বের ন্যায় স্বাধীনভাবে চলা-ফেরা মুশকিল হয়ে পড়েছে, মানুষ নিরাপদের জন্য লক ডাওনে রয়েছে, আজ বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের অবস্হা করুন, আর এই সমস্ত আযাব আমাদের গোনাহের কারণে, যেমন, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, স্হলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে, আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে,(সূরা রুম, ৪১ নং আয়াত) তাফসীরে রুহুল মাআনীতে বলা হয়েছে,

বিপর্যয় বলে দুর্ভিক্ষ, মহামারি, অগ্নিকাণ্ড,পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার ঘটনাবলীর প্রাচুর্য, সব কিছু থেকে বরকত উঠে যাওয়া ইত্যাদি আপদ-বিপদ বোঝানো হয়েছে, মোট কথা হলো এসব পার্থিব বিপদাপদের কারণ মানুষের গোনাহ ও কুকর্ম, তন্মধ্যে শিরক ও কুফর সবচাইতে মারাত্নক, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হতে নিরাপদ থাকার জন্য মক্কা-মদীনাসহ প্রায় মুসলিম দেশ গুলোতে সাময়িক সময়ের জন্য মসজিদে সমাগম নাহয়ে যার যার স্হানে নামাজ ও অন্যান্য ইবাদাত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল

, আলহামদুলিল্লাহ, রমজান মাসকে কেন্দ্র করে মক্কা-মদীনাসহ প্রায় সব দেশেই আল্লাহর ঘর মসজিদ কোন লোক সংখ্যা নির্ধারণ নাকরে সতর্কতার সাথে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে, এবং দেশের পক্ষ হতে মুছুল্লীদের সকল প্রকার নিরাপদের ব্যবস্হা করা হয়েছে, আর আল্লাহ তায়ালার ঘর মসজিদে বাঁধা নয় সকলের জন্য স্বাধীন করে দেওয়াটাই আবশ্যক,

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর মসজিদসমূহে তার নাম উচ্চারণ করতে বাঁধা দেয় এবং সেগুলোকে উজাড় করতে চেষ্টা করে, তার চাইতে বড় জালেম আর কে? এদের পক্ষে মসজিদসমূহে প্রবেশ করা বিধেয় নয়, অবশ্য ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্হায়, ওদের জন্য ইহকালে অপদস্ততা এবং পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে।(সূরা আল বাক্বারা)আয়াত নং ১১৪)

এই আয়াতের তাফসীরে মাআরিফুল কোরআনে বলা হয়েছে, মসজিদে জিকির ও নামাজে বাঁধা দেওয়ার যত পন্হা হতে পারে সে সবগুলো হারাম এবং খোলাখুলিভাবে মসজিদকে বিধ্বস্ত করা ও জনশূন্য করা যেমনি এর অন্তর্ভুক্ত এবং এমন কারণ সৃষ্টি করাও এর অন্তর্ভুক্ত, যার ফলে মসজিদ জনশূন্য হয়ে পড়ে।

অতএব আমাদের ঈমান ও ইয়াকীন হলো বিপদ দিয়েছেন আল্লাহ আবার এই বিপদ হতে রক্ষা করবেন একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা, পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আল্লাহ যদি তোমার উপর কোন কষ্ট আরোপ করেন তাহলে কেউ নেই তা খণ্ডাবার মত তাঁকে ছাড়া। পক্ষান্তরে যদি তিনি কিছু কল্যাণ দান করেন, তবে তাঁর মেহেরবানীকে রহিত করার মতও কেউ নেই, তিনি যার প্রতি অনুগ্রহ দান করতে চান স্বীয় বান্দাদের মধ্যে তাকেই দান করেন, বস্তুত, তিনিই ক্ষমাশীল দয়ালু। (সূরা হূদ, আয়াত নং ১০৭)

সুতরাং পবিত্র মাহে রমাদান উপলক্ষে আমাদের দেশের মসজিদ গুলোও লোক সংখ্যা নির্ধারণ করে নয় সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক, প্রয়োজনে মক্কা -মদীনাসহ অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতে যেই পন্হা অবলম্বন করা হয়েছে আমাদের দেশের আহলে হক্ব ওলামায়ে কেরামদের সাথে পরামর্শ করে সেই সকল ব্যবস্হা গ্রহণ করা যেতে পারে, আল্লাহ তায়ালা দেশ ও জাতিকে বুঝার তাওফীক দান করুন এবং আমাদের বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মুসলমানদের সকল প্রকার বিপদ-আপদ হতে হেফাজত করুন, আমীন।

মুফতী আব্দুল্লাহ মাহবুব কাসেমী,

পরিচালক, মিছবাহুল উলূম মাদ্রাসা, সোনারগাঁ,

খতীব, দারুস সালাম জামে মসজিদ, বন্দর, নারায়নগন্জ।