দেড় লাখ মানুষের জন্য একজন চিকিৎসক

প্রকাশিত: ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ, মে ১৬, ২০২০

হবিগঞ্জের নতুন উপজেলা শায়েস্তাগঞ্জ। এ উপজেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র একজন। একজন চিকিৎসকের দ্বারা এতোগুলো মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রদান কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ফলে সরকারি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। প্রাইভেট হাসপাতাল ও প্রাইভেট চেম্বারে গেলে অতিরিক্ত ভিজিট ও খরচ লাগে বিধায় নিম্ন আয়ের মানুষজন ভিড় করছেন অস্থায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কর্মরত মেডিকেল অফিসার ডা. মো. সাদ্দাম হোসেন। রোগীদের ভিড় সামলাতে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। রোগীদেরও দুর্ভোগের শেষ নেই।

২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর উপজেলাটি অনুমোদন লাভের পর শায়েস্তাগঞ্জ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের একটি রুম মেরামত করে সেখানেই চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম। আড়াই বছর অতিবাহিত হলোও হয়নি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিজস্ব ভবন। শুরু হয়নি পুরো কার্যক্রম।

অস্থায়ী কার্যালয়ে শায়েস্তাগঞ্জের দেড় লাখ মানুষের চিকিৎসায় দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিবকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. সাদ্দাম হোসেন।

ডা. সাদ্দাম হোসেন বলেন, নিম্ন আয়ের লোকজনের মাঝে সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে আপ্রাণ চেষ্টা করছি। প্রয়োজনীয় লোকবল আর সরঞ্জামাদি না থাকায় ঠিকমতো সেবা দিতে পারছি না। আমার একার পক্ষে এতোগুলো মানুষকে সেবা দেয়া খুবই কঠিন।

এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গাজীউর রহমান ইমরান বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে যেখানে কমপক্ষে পাঁচজন চিকিৎসক প্রয়োজন। সেখানে ডা. সাদ্দাম হোসেন একাই সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। তিনি জরুরিভাবে এখানে আরও কয়েকজন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুখলিছুর রহমান উজ্জল বলেন, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। এখানে একাধিক চিকিৎসক বসার ব্যবস্থাও নেই। এখন করোনা পরিস্থিতি চিকিৎসক পাওয়া খুবই মুশকিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে একাধিক চিকিৎসক পদায়ন করা হবে।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ তালুকদার ইকবাল বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান ছিল। করোনাভাইরাসের কারণে তা বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অধিগ্রহণ করা জমিতে উপজেলা ভবন ও ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ হবে।

অস্থায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে বসার তেমন কোনো জায়গাও নেই। আর করোনার কারণে নতুন চিকিৎসক পাওয়া যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে এমপি আবু জাহিরের ডিও লেটার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এখানে একাধিক চিকিৎসক বসবেন।

উল্লেখ্য, শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা, ব্রাহ্মণডোরা, নূরপুর ও শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৩৯ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে ঘোষণা দেয়া হয় নতুন এ উপজেলার। এ উপজেলায় দেড় লক্ষাধিক মানুষের মধ্য প্রায় ৫০ হাজার ভোটার রয়েছেন।