ঘূর্ণিঝড় শেষ, সাগরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি: তুশি

প্রকাশিত: ৩:০৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১০, ২০১৯

‘ঘূর্ণিঝড় শেষ। এখনো বৃষ্টি হচ্ছে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। তবে থেমে থেমে। এর মাঝেই রোদ উঠেছে। আমরা আবার সাগরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। আবহাওয়া একটু স্বাভাবিক হলে গভীর সমুদ্রে গিয়ে শুটিং হবে।’ আজ রোববার দুপুরে বললেন নাজিফা তুশি। তিনি এখন আছেন সেন্ট মার্টিনে। পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’ ছবির অন্যতম অভিনয়শিল্পী তিনি। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সেন্ট মার্টিনে আটকা পড়েছেন ‘হাওয়া’ ছবির অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা। টানা তিন দিন বন্ধ আছে শুটিং।

‘হাওয়া’ ছবির আরেকজন অভিনয়শিল্পী চঞ্চল চৌধুরী গতকাল শনিবার বিকেলে বলেছেন, ‘সাগরে ঘূর্ণিঝড়, আমরা সবাই হোটেলে বন্দী। বাইরে বের হওয়া নিষেধ। সাগরের তীরে কেউ যেতে পারবে না। একটু পরপর প্রশাসন থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।’ তবে আজ নাজিফা তুশি জানালেন, সেন্ট মার্টিনে এখন আতঙ্কিত কিংবা উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। সবাই বাইরে বেরিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বাতাস আর সাগরের গর্জনে সবাই যতটা আতঙ্কিত হয়েছিল, এখন পরিস্থিতি ক্রমেই স্বাভাবিক হচ্ছে।

শুটিং স্থগিত, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাইরে বের হওয়া নিষেধ। এই তিন দিন হোটেলে সবাই কীভাবে সময় কাটিয়েছেন? নাজিফা তুশি বললেন, ‘ছেলেরা কার্ড খেলেছে। আমি তো কার্ড খেলতে পারি না, তাই মেয়েদের সঙ্গে লুডু খেলেছি। আবার মোবাইল ফোনে গেম খেলেছি। গত অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শুটিং হচ্ছে। টানা শুটিং, আলাদা করে একটু বেশি সময় বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ হয়নি। কারণ সবাই শুটিংয়ের সঙ্গে এতটাই জড়িয়ে গেছি যে পরিচালক যখন বলেছেন, তখনই দ্রুত তৈরি হয়ে সবাই বেরিয়ে পড়েছি। রাত নেই, দিন নেই; পরিচালক যেভাবে চাচ্ছেন, মধ্য বঙ্গোপসাগরে গিয়ে সবাই সেভাবেই কাজ করছি। এই তিন দিন বিশ্রাম নিয়ে সবাই আবার কাজ করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েছি। বলতে পারেন, রিচার্জ হয়েছি।’

জানালেন, তিনি সাঁতার জানতেন না। ‘হাওয়া’ ছবিতে কাজ শুরু করার আগে সাঁতার শিখেছেন। গভীর সমুদ্রে গিয়ে শুটিং করছেন, এর জন্য খুব দক্ষ সাঁতারু হতে হবে, এমনটা মনে করছেন না নাজিফা তুশি। তবে বললেন, ‘যেহেতু গভীর সমুদ্রে টানা শুটিং করতে হচ্ছে, তাই সবার মাঝে আছে কঠিন মানসিক শক্তি। দুর্বল চিত্তের কেউ সেখানে গিয়ে মোটেই টিকতে পারবে না। তবে পুরো ব্যাপারটা আমার কাছে খুব চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে। আমি সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েই কাজ করছি।’

সেন্ট মার্টিনে হোটেলে আজ সকালে সবাই পরোটা, সবজি আর ডিম দিয়ে নাশতা করেছেন। অন্য সময় বেশি খাচ্ছেন সামুদ্রিক মাছ। আশপাশের বাজার থেকে সবজি সংগ্রহ করা হয়। গরুর মাংস নেই, তবে মুরগির মাংস আছে।

আরও জানালেন, ৩-৪ দিন আগে তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হয়েছে। যেহেতু ঢাকায় নেই, তাই আইনি পদক্ষেপও নিতে পারছেন না। কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

নাজিফা তুশি ২০১৪ সালের ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন। তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র ‘আইসক্রিম’। পরিচালক রেদওয়ান রনি। এ ছাড়া বিজ্ঞাপনচিত্র আর টিভি নাটকে নিয়মিত কাজ করেছেন। ‘হাওয়া’ তাঁর দ্বিতীয় ছবি।

কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিন এলাকা ঘিরে ‘হাওয়া’ ছবির শুটিং হচ্ছে। মেজবাউর রহমান সুমন আগেই বলেছেন, ‘এটা সমুদ্রতীরবর্তী মানুষের গল্প না। একেবারে সমুদ্রের জলের সঙ্গে মিশে যাওয়া জেলেদের গল্প। জলের গল্প। মাছ ধরার ট্রলারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কাহিনি। গভীর সমুদ্রে ১০ থেকে ১৫ দিনের জন্য মাছ ধরতে যান জেলেরা। সেখানকার অভিজ্ঞতা এটি। আমাদের এ অঞ্চলে জলকেন্দ্রিক যে মিথোলজি আছে, তার একটা আধুনিক উপস্থাপনা বলতে পারেন।’

এ কারণেই গভীর সাগরে গিয়ে প্রতিদিন তাঁদের শুটিং করতে হচ্ছে। সেন্ট মার্টিন থেকে ট্রলারে দেড় ঘণ্টা চলার পর সাগরের নির্ধারিত স্থানে গিয়ে নোঙর করেন তাঁরা, যাতে সেখান থেকে কোনো দ্বীপের চিহ্ন দেখা না যায়। সেখানেই সারা দিন শুটিং হয়।

‘হাওয়া’ ছবির শিল্পীদের মধ্যে এখন সেন্ট মার্টিনে আছেন চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুশি, সুমন আনোয়ার, শরিফুল রাজ, রিজভি, নাসির, মাহমুদ প্রমুখ।

মেজবাউর রহমান সুমন জানান, ছবির বেশির ভাগ শুটিং শেষ। এখানে আরও কয়েক দিন শুটিংয়ের পর কক্সবাজারেও চার-পাঁচ দিন শুটিং করতে হবে।